আজমল মিঠুর সাফল্য

By administrator on Feb 08 in Case Study.

আজমল মিঠুর সাফল্য

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের আর্থিক কাঠামো অনেক দূর্বল ছিল বিধায় বিদেশী সাহায্য ও সহযোগিতার উপর আমাদের নির্ভরশীল হতে হয়েছে। যার ফলে আমাদের দেশে দাতা সংস্থার ফান্ডের উপর নির্ভর করে অনেক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় নব্বই দশকের প্রথম দিকে এনজিও এমএফআই এর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং দাতা সংস্থার টাকায় সামাজিক উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি এনজিওগুলো ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। এসোসিয়েশন ফর রিয়েলাইজেশন অব বেসিক নিড্স-আরবান ১৯৮৪ সাল থেকে দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সঞ্চয় ও ঋণ সহায়তা কর্মসূচির (SCAP) মাধ্যমে মোঃ আজমল হক মিঠুর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হলো।

ডিসেম্বর-২০১৮ সালে এলাকা সমন্বয়কারী মোঃ মাহবুবুর রহমান ও শাখা ব্যবস্থাপক মিঃ রতন কুমার রায় আরবান-এর মুগদা শাখার এক ঋণী সদস্য মোঃ আজমল হক মিঠুর কারখানা দেখতে যায়। আজমল হক মিঠু কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকায় তাঁর বাড়ীর পাশে দু‘তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং এ ওয়াশিং ব্যবসা চালাচ্ছেন। তিনি আরবান-এর সঞ্চয় ও ঋণ কর্মসূচিতে ২০০৫ সাল থেকে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। পূর্বে তিনি প্রতি সপ্তাহে ১০/-টাকা হিসেবে সঞ্চয় জমা দিতেন। বর্তমানে তিনি ২০০/-টাকা হিসেবে সঞ্চয় জমা দিচ্ছেন। প্রথম পর্যায় তিনি আরবান থেকে ১০,০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি আরবান থেকে ৩,০০,০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে সমিতির তহবিলে তাঁর সঞ্চয় জমা রয়েছে ১,২২,০০০/- টাকা। তিনি প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত সঞ্চয় ও কিস্তির টাকা জমা দিচ্ছেন। সদস্য জানায় ২০০৫ সালে কাজলা সমিতিতে তিনি ভর্তি হন এবং ঋণ নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আরবান-এর মুগদা শাখার একটি সমিতিতে ভর্তি হন এবং গার্মেন্টস ব্যবসার জন্য ঋণের আবেদন করেন। ২০১২ সালে ঋণ নিয়ে তিনি গামের্›টস এর জিন্স কাপড়ের রং করার জন্য একটি মেশিন ক্রয় করেন। তিনি একাধিকবার ঋণ নিয়ে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করেন। তিনি একটি মেশিন দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন তাঁর সাতটি মেশিন চলমান রয়েছে। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজের কর্মসংস্থান ছাড়াও ১৮ থেকে ২০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মাসিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁর জীবনমান উন্নত হয়েছে এবং সামাজিক ভাবে মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি মনে করেন তাঁকে পিছনে আর তাকাতে হবে না।

administrator

Add Comment

Top