Case Study (Microfinance)

By administrator on Jun 01 in Case Study.

ছালমা বেগমের সফলতা

ছালমা বেগম, স্বামীঃ মোহাম্মদ মোক্তার তালুকদার, স্থ্ায়ী ঠিকানাঃ ৩ নং নয়াহাট, শামশুল তালুকদারের বাড়ী, ডাকঘরঃ রুপসা, উপজেলাঃ রুপসা, জেলাঃ খুলনা। বর্তমান ঠিকানাঃ ইব্রাহিম হাউজিং, নয়াবাজার, ২৫নং ওয়ার্ড, রামপুরা, থানাঃ হালিশহর, জেলাঃ চট্রগ্রাম।ছালমা বেগমের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলেকে গ্রামে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতে পারলেও অন্য ছেলে মেয়েকে পড়ালেখা করার সামর্থ তাঁর ছিল না। তিনি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আশায় খুলনা থেকে ২০১২ সালে স্বামী ও চার ছেলে-মেয়েকে সংগে নিয়ে চট্রগাম শহরে আসেন। নয়াবাজার বস্তির কলোনীতে এক রুমের একটি কাঁচা ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তাঁর স্বামী ভাড়ায় একটি রিক্সা চালাতেন। রিক্সা চালিয়ে দৈনিক আয় দিয়ে ৬ জনকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতেন। ৬ মাস পরে বড় ছেলেকে অন্যের রিক্সা গ্যারেজে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে কাজ দেন। এরপরেও তাঁর আর্থিক অনটন কমেনি। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ তারিখ আরবান-এর চট্টগ্রাম শাখার ৪২৫৪ নং নয়াবাজার মহিলা সমিতিতে ১১০ নং সদস্য হিসেবে ভর্তি হন। সাপ্তাহিক ৫০ টাকা হিসেবে সঞ্চয় জমা করে ৩ মাস পর ৩০ মে, ২০১৩ তারিখ ১ম দফায় ১০,০০০/-টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের টাকা দিয়ে লাইসেন্সসহ একটি পুরনো রিকসা ক্রয় করেন, যা তাঁর স্বামী নিজে চালাতে শুরু করেন। যেহেতু রিকসার দৈনিক ভাড়া দিতে হচ্ছে না সেহেতু নিজের ইচ্ছা অনুসারে রিকসা চালাতে থাকেন। তাই পূর্বের তুলনায় দৈনিক আয় বেশি হওয়াতে সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আসে। দৈনিক আয় থেকে ১০০ টাকা জমা করে ঋণের সাপ্তহিক কিস্তির টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪ তারিখ ২য় দফায় ২০,০০০/-টাকা ঋণ গ্রহণ করে একইভাবে আরেকটি রিকসা ক্রয় করে বড় ছেলেকে চালাতে দেন। দু’টি নিজস্ব রিকসার আয় থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার পাশাপাশি ৩য় রিকসা ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখ ৩য় দফায় ৫০,০০০/-টাকা, ১২অক্টোবর, ২০১৫ তারিখ ৪র্থ দফায় ৫০,০০০/-টাকা, ৩১ আগষ্ট, ২০১৬ তারিখ ৫ম দফায় ৩০,০০০/-টাকা, এবং ১৯ জুন, ২০১৭ তারিখ ৬ষ্ঠ দফায় ৪৫,০০০/-টাকা ঋণ গ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে আরো দুইটি লাইসেন্সসহ ভ্যান গাড়ি ক্রয় করেন।

বর্তমানে তাঁর ৩টি রিকসার মধ্যে স্বামী ও বড় ছেলে ২টি রিকসা চালান। ১টি রিকসা ও ২টি ভ্যান গাড়ি দৈনিক ভাড়া দেন এবং দৈনিক ভাড়া বাবদ ৩০০/-টাকা পান। নিজস্ব ২টি রিকসার আয়সহ তাঁর পরিবারের দৈনিক আয় এখন ১,৩০০/-টাকা। মাসিক আয় থেকে ঋণের কিস্তি টাকা পরিশোধ করা ও সঞ্চয় জমা করার পরেও তাঁর হাতে কিছু টাকা থাকে। উক্ত টাকা থেকে তিনি সেমি পাকা ২ রুমের স্বাস্থ্যসম্মত ঘর ভাড়া নিয়ে স্বচ্ছল জীবন-যাপন করেন। বর্তমানে ছোট মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলে পড় লেখা করছে। আরবান-এ তাঁর সঞ্চয় জমার পরিমাণ ১৫,৬৫৮/-টাকা এবং অবশিষ্ট ঋণের পরিমাণ ২২,১২৫/-টাকা। তিনি স্বপ্ন দেখছেন যে, চলতি ঋণ পরিশোধ করার পরে একটি ইজ্ঞিনচালিত গাড়ি ক্রয় করবেন। যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনি আরবান-এর সাথে জড়িত থাকবেন। যেহেতু আরবান-এর সহযোগিতায় তাঁর পারিবারিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন হয়েছে, সেহেতু তিনি আরবান-এর সফলতা কামনা করেন।

 

 

administrator

Add Comment

Top