ইচ্ছা শক্তিই বদলে দিতে পারে…

By administrator on May 19 in Case Study.

ইচ্ছা শক্তি-ই বদলে দিতে পারে ….

আয়শা নামে এক কিশোরী; বর্তমান বয়স ১৮ বছর; তার মা, বাবা ও ভাই বোনকে নিয়ে বাস করত সি-ব্লক, বাঁউনিয়াবাধ এলাকায়। তার পিতার নাম আব্দুল আলী এবং মাতার নাম সালেহা বেগম। তার বাবা দিনমজুরের কাজ করতেন এবং মা ছিল একজন গৃহিণী। জানুয়ারী, ২০০৪ সালে তাঁর মা তাঁকে আরবান স্কুল, ব্লক সি তে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি করান। এর মধ্যে দিয়ে তিনি “Education program” এর সাথে যুক্ত হয় এবং ২০০৮ সালে তিনি ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন। সমাপনী পরীক্ষার ১০ দিন পূর্বে তার মা মারা যান, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ্য ছিলেন। তারপরও তিনি অনেক বাধা-বিপত্তিকে পিছনে ফেলে অবশেষে ৫ম শ্রেণীতে ভাল ফলাফল করেন। ২০০৪ সাল থেকে তাকে আরবান এর স্পন্সরশীপ কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার স্পন্সরশীপ কোড নং: ইউঅইঈ-১৪৯. প্রতিবছর এ স্পন্সরশীপ কর্মসূচির আওতায় মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থীদের এককালীন শিক্ষা ও টিউশন ফি প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০০৯ সালে তিনি বাঁউনিয়াবাঁধ আইডিয়াল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় এবং ২০১৫ সালে অত্যন্ত সফলতার সাথে এস.এস.সি পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর তিনি সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন এবং ২০১৭ সালে, পুনরায় একই কলেজে তিনি বিবিএ (অনার্স) এ ভর্তি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি আরবান এর ÓContrasting Gender Discriminations and Promoting Social Development in Order to Amplify the Life Opportunities of Children and Adolescents in 5 Dhaka Slums (AICS) প্রকল্পের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে সহকারী টিম লিডার হিসাবে এবং ”যুক্ত হয়ে মুক্ত-United We Stand” প্রকল্পের টিম লিডার হিসাবে কাজ শুরু করে এবং বিভিন্ন গবেষণামূলক কার্যক্রম যেমনঃ চঅজ গবেষণা কার্যক্রমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের কাজ করে এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ যেমনঃ জীবন দক্ষতামূলক, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণে একজন পার্টিসিপেন্ট হিসাবে অংশগ্রহণ করে ২০১৭ সালে তিনি আরবানের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে পুনরায় একজন টিম লিডার হিসাবে যোগদান করে। বর্তমানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সে ক্লাবের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের জীবন দক্ষতামূলক, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সরাসরি সেশন দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সচেতন করে তুলছে এবং যুক্ত হয়ে মুক্ত অ্যাপস এর মাধ্যমে বিভিন্ন আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার সাথে লিংকেজ এর মাধ্যমে এলকার সহিংসতায় শিকার হওয়া নারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তার স্বপ্ন-ভবিষ্যতে একজন এনজিও কর্মী হয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে কাজ করবেন।

 

administrator

Add Comment

Top