background

এসোসিয়েশন ফর রিয়েলাইজেশন অব বেসিক নিড্স-আরবান গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অভাব-অনটন, দুঃখ-বেদনা-দূর্দশা, শোষণ-নির্যাতন-বঞ্চনা দূর করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ১৯৮৪ সনের ১৮ ফেব্রুয়ারী প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ সেবা অধিদপ্তর, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর সোসাইটিজ এক্টে রেজিষ্ট্রীকৃত এবং আরবান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি থেকেও সনদ লাভ করেছে।

আরবান বিশ্বাস করে যে, সরকার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের শাখাসমূহ ও এনজিও দ্বারা পরিকল্পিত ও গৃহীত সকল প্রকার উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচী দুঃখ-দারিদ্র, দূর্ভিক্ষ, অপুষ্টি, রোগ-ব্যাধি, বঞ্চনা, শোষণ-নির্যাতন রোধ এবং চির অবসানের জন্য বাস্তবায়িত হওয়া অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশ কোনক্রমেই একটি দরিদ্র দেশ নয়, বরং এদেশকে দরিদ্র ও দূর্বল করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সৎ, পরিশ্রমী কৃষক-শ্রমিক, উর্বর পলিমাটি, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, জলাশয় ও বনাঞ্চল সমৃদ্ধ একটি দেশ। আরবান বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশের জনগণ সম্পদের অভাবে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন নন বরং সম্পদের উপর তাঁদের মালিকানা, অধিকার ও অভিগম্যতা না থাকার কারণেই দেশে দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন মানুষের সংখ্যা বেশী।

বাংলাদেশ শত শত বছর ধরে বিদেশী দখলদারদের অধীনে ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানের পরও বাংলাদেশের জনগণ ২৩ বছরকাল পাকিস্তানী শাসকদের দ্বারা অব্যক্ত দুঃখ-বেদনা, অর্থনৈতিক শোষন-বঞ্চনা, সামাজিক অন্যায্যতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হত্যা, নির্যাতন ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ভোগ করে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র জাতি পাকিস্তানী দখলদারদের বিরুদ্ধে নয় মাস সশস্র যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর সার্বভৌম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্বপ্রকাশের পর বাংলাদেশ জনগণের দুঃখ-কষ্ট-দূর্দশা লাঘব ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে খাদ্য ও প্রকল্প সাহায্য এবং ঋণ হিসেবে প্রচুর অর্থ গ্রহণ করে। এছাড়া সরকারের পাশাপাশি দেশীয় ও বৈদেশিক অনেক উন্নয়ন সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জনগণের ক্ষুধা, দারিদ্র ও দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতদসত্ত্বেও গণমানুষের দূর্ভোগ দূর হয়নি ও কমেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র, অপুষ্টি, রোগ-ব্যাধি, বেকারত্ব এখনও দেশে বিদ্যমান রয়েছে। শোষণ, অন্যায্যতা, বঞ্চনা, বৈষম্য সমাজ ও দেশবাসীকে পঙ্গু করে রেখেছে। অসহায়, প্রান্তিক পেশাজীবী, ভূমিহীন ক্ষেতমজুর, বর্গাচাষী ও বস্তিবাসী মানুষের সংখ্যা ১৯৭২ সনের শতকরা ৩০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭০ ভাগে পৌঁছেছে। তাঁরা দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করেন এবং নিজেদের মৌলিক প্রয়োজনীয় চাহিদাসমূহ পর্যাপ্তভাবে মেটাতে পারেন না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারছেন না। ভূমিহীন, দরিদ্র কৃষক, ক্ষমতাহীন আদিবাসী, শ্রমিক-কর্মচারী, অসহায় নারী-শিশু বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি, বিশ্ববানিজ্য সংস্থা ইত্যাদির দ্বারা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের গণমানুষকে তাঁদের অবস্থার পরিবর্তন সাধনের জন্যে সচেতন ও সংগঠিত করতে আরবান গত ৩৩ বছর ধরে এর ভিশন, মিশন, লক্ষ্য এবং মুল্যবোধকে বাস্তবে রূপায়িত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Top