দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশ দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সরাসরি কোন দায়ী দেশ না হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন বা ঝুকির মধ্যে রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম । একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে গ্রাস করছে । ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলা এর বড় প্রমাণ ।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্ম পরিকল্পনায় খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচী রয়েছে । উক্ত কর্মসূচীর লক্ষ্য হলো স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন । কারন জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ধরনী আরো উত্তপ্ত ও আর্দ্র হলে বিভিন্ন রোগ জীবানুর বংশ বিস্তার ঘটবে । স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ থেকে বিপুল জনগোষ্ঠী রক্ষা পাবে । অতি বন্যায় প্রকল্প এলাকা প্লাবিত হলে নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগ, টাইফয়েড ইত্যাদি নানা পানিবাহিত রোগ মহামারী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে বহু লোকের প্রাণহানি ঘটতে পারে । তাই প্রকল্প এলাকায় নতুন টিউবওয়েল বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে । ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে জনগন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারনে অনেক সময় পরিবারের শিশুরা সঠিক পুষ্টি পায় না । তাই বসতভিটার আঙিনায় বাগান সৃজন করার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের পুষ্টিহীনা দূর করা সম্ভব হবে । প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম ১ অক্টোবর ২০১৪ থেকে শুরু হয় এবং সফলভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ শেষ হয় । প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।

কৃষি, জলা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড কোয়ালিশন – এইএলসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূলতঃ এর সদস্য সংগঠনসমূহ এবং তাদের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ভূমি  ইস্যুতে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি কৌশল হিসেবে ন্যাশনাল এনগেইজম্যান্ট ষ্ট্র্যাটেজী কর্মসূচী গ্রহন করে । বাংলাদেশে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপম্যান্ট – এ এল আরডি তার সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহন করে ।

নেস কর্মসূচীর প্রথম পর্বের কাজ ফেব্রুয়ারী ২০১৪ থেকে শুরু হয়ে  অক্টোবর ২০১৪ শেষ হয় । আরবান পার্টনার এনজিও হিসেবে প্রথম পর্বের কর্মসূচীর মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা বাউফল উপজেলা এবং বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় ৬ টি কর্মশালা আয়োজন করে । অক্টোবর ২০১৫ থেকে নেস কর্মসূচীর ২য় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় এবং ৪ টি কর্মশালা সফলভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ৩১ জুলাই ২০১৬ শেষ হয় । নেস প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর কাজ প্রক্রিয়াধীন  রয়েছে ।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

সাইক্লোন ও সিডরে অর্থনৈতিক ক্ষতি ১১৫.৬ বিলিয়ন টাকা । ২.৩ মিলিয়ন পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় । ৩৪০৬ জন মানুষ মারা যান এবং ৫৫০০০ মানুষ শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । অনেকেই চিরকালের মত পঙ্গু হয়ে যায় । তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের কবল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষার জন্য টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান যতটা সম্ভব কমিয়ে নিয়ে আসাই আরবান এর এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ।